জাপানে শিক্ষার্থীর বাসস্থান ও আগমনের প্রস্তুতি: সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

Foreign resident walking near a Japanese train station and convenience store in a quiet urban neighborhood in Japan.

AIC Japan শিক্ষার্থী আগমন নির্দেশিকা

বাসস্থান বুঝে বেছে নিন, তারপর আগমনের কাজগুলো সঠিক ক্রমে শেষ করুন

কম ভাড়ার একটি বাসা জামানত, বিভিন্ন ফি, আসবাব ও যাতায়াতের খরচ যোগ হওয়ার পর ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে। এই নির্দেশিকায় বাসস্থানের ধরন তুলনা, প্রকৃত খরচের হিসাব এবং জাপানে পৌঁছানোর পর প্রথম ৩০ দিনের জরুরি কাজগুলো সাজানো হয়েছে।

সর্বশেষ যাচাই: ১১ আগস্ট ২০২৬   |   প্রযোজ্য: তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য জাপানে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী   |   পরবর্তী পর্যালোচনা: ফেব্রুয়ারি ২০২৭

ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসস্থান খোঁজা শুরু করুন

জাপানের সরকারি Study in Japan ওয়েবসাইট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর দ্রুত বাসস্থান খোঁজা শুরুর পরামর্শ দেয়। প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরে যোগাযোগ করুন। এরপর প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তালিকা, নির্ভরযোগ্য বাসস্থান সেবা এবং যাচাইকৃত স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীর তথ্য তুলনা করুন। কেউ কক্ষ “নিশ্চিত” বলে দাবি করলেই বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাবেন না।

বাসস্থানের ধরনকার জন্য উপযোগীপ্রধান সুবিধাযা যাচাই করবেন
শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসনতুন আগমনকারী ও কম খরচে থাকতে চাওয়া শিক্ষার্থীপ্রাথমিক খরচ সাধারণত কম, অনেক সময় আসবাব থাকে, প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজকক্ষ সীমিত, আবেদনের সময়সীমা, যৌথ সুবিধা, প্রবেশের সময় বা অন্য নিয়ম
ব্যক্তিগত ভাড়া বাসাগোপনীয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি থাকার সুবিধা চান যারাএলাকা ও বাসার বেশি পছন্দ, স্বাধীনতাজামানত, অফেরতযোগ্য প্রারম্ভিক অর্থ, মধ্যস্থতা ও জামিনদাতা প্রতিষ্ঠানের ফি; আসবাব আলাদা হতে পারে
ভাগাভাগির বাসস্থানআসবাবসহ তুলনামূলক নমনীয় বাসস্থান চান যারাপ্রস্তুতির ঝামেলা কম, সামাজিকভাবে মানিয়ে নেওয়া সহজব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ঘরের নিয়ম, ঠিকানা নিবন্ধন, চুক্তির মেয়াদ ও যৌথ খরচ
অস্থায়ী বাসস্থানজাপানে পৌঁছানোর আগে দীর্ঘমেয়াদি বাসা সরাসরি যাচাই করতে পারেননি যারাবাসা দেখে এবং এলাকা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাওয়া যায়দৈনিক মোট খরচ, লাগেজের নিয়ম এবং ওই ঠিকানায় নিবন্ধন সম্ভব কি না

মাসিক খরচের পাশাপাশি বাসায় ওঠার মোট খরচ হিসাব করুন

JASSO-এর ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী জীবনযাপন জরিপ অনুযায়ী, বাসস্থানের গড় মাসিক খরচ ছিল সারা দেশে ৪১,০০০ ইয়েন এবং টোকিওতে ৫৭,০০০ ইয়েন। অঞ্চলভেদে গড় খরচ হোক্কাইডোতে ৩৪,০০০, তোহোকুতে ২৬,০০০, কানতোতে ৫১,০০০, চুবুতে ৩০,০০০, কিনকিতে ৪০,০০০, চুগোকুতে ২৬,০০০, শিকোকুতে ২৭,০০০ এবং কিউশুতে ২৯,০০০ ইয়েন। এগুলো গড় হিসাব, নিশ্চিত ভাড়া নয়।

বাসায় ওঠার ব্যবহারিক হিসাব: প্রথম মাসের ভাড়া + জামানত + বাড়ির মালিককে প্রদত্ত অফেরতযোগ্য প্রারম্ভিক অর্থ + মধ্যস্থতা ফি + জামিনদাতা প্রতিষ্ঠানের ফি + বিমা + আসবাব ও বৈদ্যুতিক সামগ্রী + পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ + স্থানান্তর ও যাতায়াত খরচ।

পড়াশোনা ও গবেষণার খরচ বাদ দিয়ে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর গড় মাসিক জীবনযাপন ব্যয় সম্পর্কে জাপানের সরকারি হিসাব ১০৫,০০০ ইয়েন। আপনার প্রকৃত খরচ শহর, বাসস্থানের ধরন ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করবে। সম্মতি দেওয়ার আগে লিখিত এবং খাতভিত্তিক খরচের তালিকা নিন।

বাসা যাচাইয়ের ১০টি বিষয়

  1. বাসায় ওঠার মোট খরচ: সব ফি লিখিতভাবে নিন এবং কোন অর্থ ফেরতযোগ্য তা জানুন।
  2. মাসিক মোট খরচ: ব্যবস্থাপনা ফি, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও সাইকেল রাখার খরচ যোগ করুন।
  3. যাতায়াত: বাসা থেকে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত মোট সময়, ভাড়া এবং শেষ ট্রেনের সময় দেখুন।
  4. চুক্তি: শুরুর তারিখ, সর্বনিম্ন মেয়াদ, নবায়ন ফি এবং আগে বাতিলের খরচ যাচাই করুন।
  5. জামিনদার: ব্যক্তিগত জামিনদার নাকি জামিনদাতা প্রতিষ্ঠান লাগবে এবং ফি কত, তা জানুন।
  6. আসবাব: বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, কাপড় ধোয়ার যন্ত্র ও বিছানাসহ ঠিক কী থাকবে তা লিখিতভাবে নিন।
  7. ঠিকানা নিবন্ধন: ওই ঠিকানাটি নিজের বসবাসের ঠিকানা হিসেবে নিবন্ধন করা যাবে কি না নিশ্চিত করুন।
  8. নিরাপত্তা: তালা, অগ্নিনির্গমন পথ, ভবনের অবস্থা ও এলাকার দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য দেখুন।
  9. বাসা ছাড়ার নিয়ম: পরিষ্কার, মেরামত ও পরিদর্শনের শর্ত চুক্তির আগে পড়ুন।
  10. দৈনন্দিন নিয়ম: আবর্জনা আলাদা করা, শব্দ, অতিথি, ধূমপান ও সাইকেলের নিয়ম বুঝুন।

দেশ ছাড়ার আগে সহজ প্রস্তুতি সময়রেখা

ভর্তির পর

  • ছাত্রাবাসের সময়সীমা ও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সহায়তা জানুন।
  • বাসায় ওঠা ও মাসিক খরচের বাস্তবসম্মত বাজেট করুন।
  • ভর্তি, COE, ভিসা ও অর্থপ্রদানের কপি রাখুন।

ভ্রমণের চার সপ্তাহ আগে

  • ঠিকানা, প্রবেশের সময় ও জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করুন।
  • দীর্ঘমেয়াদি বাসা যাচাই না হলে অস্থায়ী বাসস্থান ঠিক করুন।
  • জরুরি কাগজপত্রের ছাপা ও ডিজিটাল কপি তৈরি করুন।

শেষ সাত দিন

  • ব্যবহার করতে চাইলে Visit Japan Web-এর কাজ শেষ করুন।
  • পাসপোর্ট, ভিসা, COE ও বাসস্থানের তথ্য হাতব্যাগে রাখুন।
  • বিমানবন্দর থেকে যাত্রাপথ ও প্রতিষ্ঠানের প্রথম দিনের নির্দেশনা নিশ্চিত করুন।

জাপানে পৌঁছে সঠিক ক্রমে যে কাজগুলো করবেন

সময়করণীয়গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রবেশের সময়পাসপোর্ট, ভিসা, দেওয়া হয়ে থাকলে COE এবং চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র দেখান।Visit Japan Web অভিবাসন ও শুল্কসংক্রান্ত আগমন প্রক্রিয়ার সরকারি অনলাইন সেবা।
নির্ধারিত প্রধান বিমানবন্দরেপ্রযোজ্য হলে রেসিডেন্স কার্ড গ্রহণ করুন।অন্য প্রবেশপথে পাসপোর্টে কার্ড পরে দেওয়ার উল্লেখ থাকতে পারে।
বাসার ঠিকানা ঠিক হওয়ার পরপৌরসভা বা ওয়ার্ড কার্যালয়ে বসবাস শুরুর বিজ্ঞপ্তি দিন।বাসস্থান ঠিক হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কাজটি করুন।
ঠিকানা নিবন্ধনের পরতিন মাস বা তার বেশি থাকলে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমায় যোগ দিন।বিমার আওতাভুক্ত চিকিৎসায় সাধারণত বিমা ৭০ শতাংশ এবং আপনি ৩০ শতাংশ পরিশোধ করেন।
নিবন্ধনের পরডাকযোগে My Number সম্পর্কিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করুন।নিবন্ধিত নাম এবং ডাকবাক্সের তথ্য সঠিক রাখুন।
প্রথম কয়েক সপ্তাহেপানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ফোন, ব্যাংক, ইন্টারনেট ও আবর্জনা ব্যবস্থার কাজ করুন।প্রতিষ্ঠানভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময় আলাদা হয়।

রেসিডেন্স কার্ড পাওয়া বিদেশি বাসিন্দাকে কার্ডটি সঙ্গে রাখতে হয়। বিমানবন্দরে কার্ড না পেলে ঠিকানা নিবন্ধনের পর সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। কোন প্রবেশপথে কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রক্রিয়া কী, তা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই Immigration Services Agency-এর সর্বশেষ তথ্য দেখুন।

প্রথম ৭২ ঘণ্টা, ১৪ দিন ও ৩০ দিনের কাজ

প্রথম ৭২ ঘণ্টা

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি জানান এবং পরিচিতি অনুষ্ঠানের সময় নিশ্চিত করুন।
  • কক্ষে আগে থেকে থাকা ক্ষতির ছবি তুলে রাখুন।
  • জরুরি বের হওয়ার পথ, স্থানীয় যাতায়াত ও আবর্জনার নিয়ম শিখুন।
  • অর্থ না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না।

১৪ দিনের মধ্যে

  • বসবাসের ঠিকানা নিবন্ধন করুন।
  • জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার প্রক্রিয়া শেষ করুন।
  • প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানকে ঠিকানা জানান এবং পরিবর্তন হলে নথি হালনাগাদ করুন।

৩০ দিনের মধ্যে

  • মাসিক বাজেটের সঙ্গে প্রকৃত খরচ মিলিয়ে দেখুন।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক, ফোন, ইন্টারনেট ও সংযোগের কাজ শেষ করুন।
  • চুক্তি, রসিদ ও সরকারি চিঠি নিরাপদে রাখুন।
  • এলাকার দুর্যোগকালীন আশ্রয় ও সরিয়ে নেওয়ার তথ্য জানুন।

বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত প্রস্তুতি

  • ভর্তি, COE, ভিসা, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকের কাগজপত্র, শিক্ষাব্যয়ের রসিদ এবং নিশ্চিত বাসস্থানের তথ্য ছাপা ও ডিজিটালভাবে রাখুন।
  • প্রথম দিকের জীবনযাপনের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন তা আগে ঠিক করুন। জাপানের ব্যাংক হিসাব বা আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর সঙ্গে সঙ্গে চালু হবে ধরে নেবেন না।
  • অপরিচিত বাসস্থান সেবাদাতাকে অর্থ পাঠানোর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করান।
  • পরিবারের সদস্য সঙ্গে এলে তাদের অভিবাসন, বাসস্থান ও কাগজপত্রের প্রয়োজন আলাদাভাবে নিশ্চিত করুন।
  • সব চুক্তি ও আবেদনে পাসপোর্টে থাকা ইংরেজি বানান হুবহু ব্যবহার করুন।

বাসস্থান ও আগমনসংক্রান্ত সতর্কসংকেত

  • লিখিত চুক্তি ছাড়া দ্রুত পুরো অর্থ পাঠানোর চাপ।
  • বাসায় ওঠার খাতভিত্তিক খরচ বা ফেরত ও বাতিলের নিয়ম অস্পষ্ট।
  • মালিক, ঠিকানা বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই করা যায় না।
  • জামিনদার, ঠিকানা নিবন্ধন বা বাসা দেখা “কখনো লাগে না” এমন দাবি।
  • রসিদ ছাড়া শুধু নগদে অর্থ দেওয়ার দাবি।
  • ১৪ দিনের ঠিকানা নিবন্ধনের নিয়ম উপেক্ষা করার পরামর্শ।

শেষবারের আগমন যাচাইতালিকা

  • ☐ ভর্তি, পাসপোর্ট, ভিসা ও COE-এর কপি প্রস্তুত
  • ☐ বাসস্থানের ঠিকানা ও প্রবেশের যোগাযোগ নিশ্চিত
  • ☐ বাসায় ওঠা ও প্রথম মাসের মোট বাজেট হিসাব করা
  • ☐ বিমানবন্দর থেকে বাসস্থান পর্যন্ত যাত্রাপথ ইন্টারনেট ছাড়া দেখার ব্যবস্থা
  • ☐ রেসিডেন্স কার্ডের প্রক্রিয়া বোঝা
  • ☐ পৌরসভায় নিবন্ধনের সময়সীমা নোট করা
  • ☐ জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার প্রক্রিয়া পরিকল্পনা করা
  • ☐ প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি অনুষ্ঠান ও জরুরি যোগাযোগ সংরক্ষণ করা

সরকারি উৎস ও যাচাই

এই লেখা শিক্ষামূলক তথ্য। এটি আইনি, অভিবাসন বা চুক্তিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। নিয়ম, ফি ও সেবাদাতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, Immigration Services Agency এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করুন।

Comments

Leave a Reply

Discover more from AIC Japan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading